ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬

নামের মিল থাকায় আসামির পরিবর্তে কারাগারে অন্য একজন, অবশেষে জামিন 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশিত : ১৫:৩৮, ১১ ডিসেম্বর ২০২০

Ekushey Television Ltd.

নামের মিল থাকায় এক আসামির পরিবর্তে অন্য একজনকে গ্রেফতার করার অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আসামি ইকবাল ওরফে দিপুর (৩২) পরিবর্তে ইকবাল হোসেন (৩০) নামের এক রং মিস্ত্রিকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। দেড় মাস জেলে হাজতবাস করে জামিনে বের হয়েছেন সেই যুবক।  

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার মৃত ইউসুফ মোল্লার ছেলে ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতারি পরোয়ানার কথা বলে গত ২১ অক্টোবর রাতে ধরে নিয়ে যায় ফুতল্লা মডেল থানার উপ-পরির্দশক এস এম শামীম। পরদিন তাকে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। এরপর দেড় মাস কারাগারে থেকে গত ৩০ নভেম্বর আদালত থেকে জামিনে বের হন ইকবাল হোসেন। 

গ্রেফতারি পরোয়ানায় দেখা গেছে, ইকবাল ওরফে দিপু। পিতা ইউসুফ আলী সরদার। ফতুল্লার নন্দলালপুর এলাকার বাসিন্দা। ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানায় জারি করেন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তবে এই আসামিকে গ্রেফতারের পরিবর্তে নামের মিল থাকায় ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
 
দেড় মাস হাজত বাস করে জামিনে আসা ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ নামের মিল থাকায় গত ২১ অক্টোবর রাতে ফতুল্লা থানার উপপরির্দশক শামীম আমাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন ২২ অক্টোবর আমাকে অন্যের মামলায় জেলে পাঠানো হয়। দেড় মাস জেল থেকে জামিনে বের হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইকবাল হোসেন দিপু নামে এক আসামির পরিবর্তে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে গেছে। নামের মিল থাকাটা কি আমার অপরাধ। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত চাই। এবং অন্যের মামলা থেকে মুক্তি চাই।’

ইকবালের মা বলেন, ‘আমার ছেলে রংয়ের কাজ করে। আমার ছেলে একটি ডিম আইন্ন ভাইজ্জা দিতে দিতে কইছিলো ভাত খাইবো, ওই সময় এক শাকিল নামের এক সোর্স দারোগারে বাড়িতে নিয়া আইছে। পরে পুলিশ আমার ছেলেরে ধইরা নিয়া গেছে। আমার ছেলে কি অপরাধ করেছে পুলিশের কাছে জানতে চাইছিলাম, দারগা শামীম কইলো ওর নামে ওয়ারেন্ট আছে। দেড় মাস পর আমার ছেলে জামিন পাইছে। আমাগো উকিল জজ স্যাররে কইছে, এইটা ওই লোক না যার নামে ওয়ারেন্ট এটা অন্য ইউসুফ। আমার ছেলে কি অপরাধ করছে যে অন্যজনের মামলা পুলিশ ওরে আসামি বানায় দিছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এস এম শামীম  জানান, ‘যদি এ ধরনের ঘটনা হয় তাহলে তার পরিবার থানায় চেলেঞ্জ করতে পারতো। আদালতে বলতে পারতো।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দিয়ে আর ফোন ধরেননি।’

ইকবাল হোসেনের আইনজীবী সাইদুল ইসলাম জানান, ‘ইকবাল হোসেন ওই মামলার আসামিনয়। অন্য মামলায় পুলিশ তাকে ধরে এনে এই মামলায় চালান করেছে। একটি গরীব ছেলেকে অন্যজনের মামলায় পুলিশ ফাঁসিয়ে দিতে পারে না। তার পুরো নামের সাথে ও তার বাবার নামের সাথে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃত আসামির মিল নেই। ৩০ নভেম্বর ফতুল্লা কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন না। তাই অন্য আদালতকে বিষয়টি  অবগত করে ইকবালের জামিন নিয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন আদালতে ইকবাল হোসেনকে অব্যহতির জন্য আবেদন করবো। একই সাথে ফতুল্লা থানার দারগার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানাবো।’  
 
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসলাম হোসেন জানান, ‘কাউকে গ্রেফতারের পর তার সর্ম্পকে বিভিন্ন তথ্য যাচাই বাছাই করা হয়ে থাকে। তারপরও যদি নামের ভুলে একজনের পরির্বতে অন্যজনকে ধরে আনার ঘটনা ঘটে। তাহলে আমরা তদন্ত করে সেই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।’

এ ঘটনা নতুন নয় এর আগে ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি অপহর মামলায় মামুন নামে এক যুবককে খুন এবং অপহরণের ভুয়া অভিযোগ এনে ছয় জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়ার ঘটনা ঘটে। পরে নিহত মামুন নিজেই আদালতে হাজির হন। আদালত মামলায় অভিযুক্ত ছয় জন অব্যহকি দিয়েছেন। তদন্ত কর্তকর্তাদের বিরুদ্ধে পরে আদেশ হবে বলে জানিয়ে ছিলো আদালত। 

এরও আগে সদর মডেল থানার আরেক এস আই শামীম আহম্মেদ জিসামনি নামের এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ মো. রকিব, খলিলুর রহমান (নৌকার মাঝি) ও আব্দুল্লাহ নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে মারধর করে। পরে তাদের মধ্যে খলিলুর রহমান (নৌকার মাঝি) ও আব্দুল্লাহ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় তারা জিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছে। 

এ ঘটনার কিছুদিন পর ফিরে আসে জিসা মনি। এ ঘটনায় এখন বিভাগীয় মামলার আসামি তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই। 
এআই/এসএ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি